‘টাকার অভাবে’ আগ্রহ নেই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে চায় বাফুফে, ‘টাকার অভাবে’ আগ্রহ নেই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
প্রকাশিত: ২৬/০৮/২০২৬ ০২:১১:৩৮ অপরাহ্ন
ছবি: ।
আগামী অক্টোবরে ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রীতিম্যাচ খেলতে পারে ব্রাজিল। এমন খবর আসার পর থেকেই দেশের ফুটবল ভক্তদের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না। তবে এই ম্যাচ আয়োজন আলোচনায় শুরুতেই জল ঢেলে দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। যদিও ম্যাচ খেলতে আগ্রহ দেখিয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন - বাফুফে। বক্সিং ফেডারেশনের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গত মঙ্গলবার সংবাদকর্মীদের আমিনুল জানিয়েছেন, ব্রাজিলের সফরে অর্থ বিনিয়োগের মানসিকতা সরকারের নেই। গত রোববার পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশনের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে গেছেন। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার সুযোগ-সুবিধা পর্যবেক্ষণ করেন তারা। ঢাকার বেশ কটি পাঁচ তারকা হোটেলও দেখেছে প্রতিনিধি দল। কলকাতায় ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের পরপরই বাংলাদেশের সঙ্গে ঢাকায় ৬ অক্টোবর একটি প্রীতিম্যাচ খেলার ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিল। যদিও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন পায়নি, তবে প্রতিনিধি দলের এ সফর নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই ফুটবল ভক্তদের মাঝে। ঘরের মাঠে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের নিজ দল বাংলাদেশের সঙ্গে দেখতে চান অনেকেই। তবে এই ম্যাচ আয়োজনে প্রয়োজন বিশাল অঙ্কের অর্থ। বাফুফেকে এই ম্যাচ আয়োজন করতে সরকারের সহায়তাও লাগবে। তবে সরকার এ রকম ম্যাচ আয়োজনে খুব বেশি সহায়তা করতে পারবে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, “এক কথায় উত্তর দিলে এই মুহূর্তে আমাদের সরকারের পক্ষে এ ধরনের অর্থ ব্যয় করা হয়তো সম্ভব হবে না। যেহেতু আপনারা জানেন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে আমাদের অনেক বেশি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে একটি ম্যাচকে উপলক্ষ্য করে সরকারের পক্ষে এ ধরনের ব্যয় করার মতো মানসিকতা আমাদের নেই”। তবে আমিনুল হক জানান, অর্থ দিয়ে না হলেও সব ধরনের সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত, “বাফুফের সঙ্গে যেহেতু ব্রাজিল প্রতিনিধিদলের কথা হয়েছে, তারা যদি বিভিন্ন স্পন্সর এনে সেটাকে পরিপূর্ণতা দিতে পারে, তাহলে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করব”। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “ব্রাজিলের ঢাকা আসার সম্ভাবনা একদম প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। বাফুফের সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমরা প্রাথমিক আলোচনাই করেছি। ব্যয়ভার বহনসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে এখনও খোলামেলা আলোচনা হয়নি”। ব্রাজিল বাংলাদেশে এলে বাংলাদেশের ফুটবলে কী লাভ? এমন প্রশ্নও হয়েছে। আমিনুল হক বলেন, “আমরা যেটা বিশ্বাস করি, ব্রাজিল দল যদি বাংলাদেশে আসে, এসে যদি আবার বাংলাদেশ দলের সঙ্গে খেলে, তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অর্জন। “তবে বাংলাদেশের ফুটবল কতটুকু এগোবে এর মাধ্যমে, এটা নিয়ে আমি খুব বেশি আশাবাদী নই। ম্যাচ হবে, হয়তোবা বাংলাদেশ ব্রাজিলের সঙ্গে খেলবে, মানুষের যে প্রত্যাশা, সেটাও হয়তোবা পূরণ হবে। দর্শকরা হয়তো একটু আনন্দিত হবেন, কিন্তু ব্রাজিল দল খেলে গেলে যে বাংলাদেশের ফুটবলে পরিবর্তন চলে আসবে- এ বিষয়ের সঙ্গে আমি একমত নই”, বলেছেন প্রতিমন্ত্রী। সরকারের পক্ষে এই ম্যাচ আয়োজনে আর্থিক সহায়তা না পেলে বাফুফের জন্য কঠিন হয়ে যাবে ব্রাজিলকে আতিথ্য দেওয়া। এরআগে ব্রাজিলের টেকনিক্যাল টিম বাংলাদেশ সফর করে যাওয়ার পর বাফুফের নির্বাহী সদস্য সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া শাহীন খেলার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সভাপতি তাবিথ আউয়াল ফিফার সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন, যাতে ব্রাজিল ম্যাচটাও খেলতে পারি এবং আসিয়ান কাপও খেলতে পারি।’ ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলবে। এরপর অবস্থান নির্ধারণী ম্যাচসহ মোট চারটি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ৩ অক্টোবর। অন্যদিকে ব্রাজিল ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলে ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে খেলবে। এরপরই ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে ব্রাজিল ম্যাচটি আয়োজন করতে হলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা জরুরি হয়ে পড়েছে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল সেই পথই খুঁজতে চান। ব্রাজিলের প্রতিনিধিরাও ঢাকায় বৈঠকের পর নিজেদের ফুটবল ফেডারেশনে রিপোর্ট দেবেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে দুই ফেডারেশনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। শাহীন জানিয়েছেন, ব্রাজিলের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর শর্ত দেওয়া হয়নি। জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ ও আশপাশের অবকাঠামো নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে ড্রেসিংরুম, টেকনিক্যাল রুম এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরও উন্নতির পরামর্শ দিয়েছে তারা। ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের মতে, এসব কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই করা সম্ভব। ব্রাজিলের বহরও হবে বড়। প্রায় ৯০ সদস্যের দল নিয়ে ঢাকায় আসার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা সাপোর্ট স্টাফ রাখার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে। এই ম্যাচ আয়োজন বাফুফের একার পক্ষে সম্ভব নয় জানিয়েছিলেন বাফুফের এই কর্মকর্তা। তিনি জানিয়েছিলেন, এজন্যে তারা সরকারের সহযোগিতা চাইবেন। ‘ভালো কোনো উদ্যোগের জন্য অর্থ তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমাদের সভাপতি নিশ্চয়ই পদক্ষেপ নেবেন। ক্রীড়ামন্ত্রী ও সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা নেওয়া হবে। এ রকম ম্যাচ করতে হলে সরকারের সহায়তা নিয়েই করতে হবে।’
এইচ বি বা