সিলেটে কর্মবিরতিতে চা শ্রমিকরা
বিভিন্ন দাবিতে সিলেটের ২৩ চা বাগানে কর্মবিরতি পালন
প্রকাশিত: ২৭/০৮/২০২৬ ০২:৩৭:০০ অপরাহ্ন
ছবি: ।
চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫শ টাকা নির্ধারণ, গেজেট-২০২৩ বাতিল, অবিলম্বে বাচাশ্রই নির্বাচন এবং ভূমি অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে আজ ২৭ আগস্ট ২য় দিনের মতো সিলেট ভ্যালির প্রতিটি চা বাগানে ২ ঘন্টা কর্মবিরতি পালিত হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে। এমন কি আন্দোলন আরো বৃহত্তর রুপ নিতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান। প্রায় ১ মাস ধরে চা শ্রমিকরা ৫শ টাকা মজুরি, ২০২৩ সালে প্রণীত চা শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী গেজেট বাতিল, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন এবং ভূমি অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছেন। কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আজ থেকে সিলেট ভ্যালির প্রতিটি বাগানে ২ ঘন্টা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্ম বিরতি পালন করছেন। বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭টাকা। আজকের দিনে এই মজুরি দিয়ে কোন ভাবেই একটি পরিবার দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে চলতে পারে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের মতে, দৈনিক ১০ঘন্টা কাজ করলে একজন পুরুষ শ্রমিকের ৩৪৬৪ কিলো-ক্যালরি এবং নারী শ্রমিকের ২৪০৬ কিলো-ক্যালরি ক্ষয় হয়। সে হিসাব অনুযায়ী ৫সদস্যের একটি চা শ্রমিক পরিবারের শুধু খাদ্য চাহিদা পূরণ করতেই দৈনিক কমপক্ষে সাড়ে ৬’শ থেকে ৭’শ টাকা প্রয়োজন। এর বাইরে শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন, বস্ত্র, বাসস্থানসহ মৌলিক বিষয়গুলো তো আছে। ফলে ৫শ টাকা মজুরির দাবি কোন বিলাসিতা নয়, শুধু খাবার খেয়ে পরের দিন কাজ করার দাবি মাত্র। এখন মজুরি বৃদ্ধি না করে শুধু বাচাশ্রই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কথা নানা ভাবে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টা বাদ দিয়ে শুধু নির্বাচনের ঘোষণা দিলে চা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোব্দটাই বাড়াবে। এমতাবস্থায় সংশোধিত শ্রম আইনের ১৩৯(৬) ধারা অনুযায়ী 'গেজেট-২৩' বাতিল করে নতুন মজুরি পুনঃনির্ধারণ করা যায়। আন্দোলনরত চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে বসে অবিলম্বে ৫শ টাকা মজুরি,অবৈধ গেজেট বাতিল, বাচাশ্রই নির্বাচন এবং ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা হোক।"
এইচ বি বা