প্রকাশিত

২৮/০৯/২০২৬ ০৫:২৮:০০ অপরাহ্ন

সিলেট জুড়ে

কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ,

সিলেটে তীব্র লোডশেডিং

প্রকাশিত: ২৮/০৯/২০২৬ ০৫:২৮:০০ অপরাহ্ন

ছবি: কুমারগাঁওয়ের ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র।


 তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ-সংকটে নাকাল হয়ে পড়েছেন সিলেটের মানুষ। কুমারগাঁওয়ের ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত দুই থেকে তিন দিন ধরে সিলেট অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।


নগর থেকে গ্রাম-বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর এ সংকট আরও তীব্র হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকেরা। বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। দোকানপাট ও ছোট কারখানায় কাজের গতি কমে গেছে। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারায় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বাসাবাড়িতেও ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। দিনের পাশাপাশি রাতেও কয়েক দফা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় গরমের মধ্যে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প চালানো, রান্নাবান্না ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজেও সমস্যা হচ্ছে।


শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। সামনে পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার  সন্ধ্যার পর সিলেট অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ২৫২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় প্রায় ২১২ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়। এ ঘাটতি সমন্বয় করতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় ভোল্টেজও কমে যাচ্ছে। ভোল্টেজ স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। কেন্দ্রটি সচল থাকলে বর্তমান মাত্রায় লোডশেডিং করতে হতো না। নগরের বাইরের পরিস্থিতি আরও কঠিন বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা।



বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে দিনে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষিকাজ ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পিডিবি সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন বলেন, কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গত তিন থেকে চার দিন ধরে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর প্রভাব সিলেট অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে পড়েছে। তিনি জানান, কেন্দ্রটির একটি ভালভে সমস্যা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনার পর মেরামতের কাজ শুরু হবে। তবে কেন্দ্রটি পুরোপুরি সচল হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

sa