শিশু ধর্ষণ
হাসপাতালের বেডে শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ১৯ বছর পর
প্রকাশিত: ১৩/১০/২০২৬ ০৭:৫১:৪১ অপরাহ্ন
২২ বছর বয়সে শিশু ধর্ষণে অভিযুক্ত হন বালাগঞ্জের সুমেল খা। সেই বয়সে তিনি ১০বছর বয়সী শিশু কন্যাকে বালাগঞ্জ সদর হাসপাতালে মহিলা ওয়ার্ডের ১৩ নং কক্ষে সুকৌশলে ধর্ষণ করেন। এই ঘটনায় মামলা দায়ের করার ১৯ বছর পর আজ আলোর মুখ দেখে বালাগঞ্জ হাসপাতালের ভেতরে ১০ বছর বয়সী শিশু ধর্ষণ মামলা।
সিলেটের বালাগঞ্জে হাসপাতালে ভবনে ১০ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও জেলা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন আজ ১৩ অক্টোবর রায় প্রদান করেছেন সিলেটের আদালতে।
রায়ে শিশু ধর্ষণ মামলায় সুমেল খা নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যার পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবার পাবে।
অনাদায় আরো পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আসামি স্বেচ্ছায় অর্থদণ্ড আদায় না করলে জেলা প্রশাসক আসামির স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানা টাকা আদায় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুমেল খা বালাগঞ্জ উপজেলার গুপখানু গ্রামের তৈমুজ খা এর ছেলে।
ঘটনার ১৯ বছর পরে হলেও রায় পেয়ে ধর্ষণ মামলা আলোর মুখ দেখেছে বলে জানান বাদী পরিবার।
মামলার তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ২০০৭ সালের ৫ নভেম্বর রাত ১০ টার দিকে বালাগঞ্জ সদর হাসপাতালে দ্বিতীয় তলার ১৩ নম্বর মহিলা ওয়ার্ডে ১০ বছর বয়সী শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনায় ভিকটিম এর চাচা দুলাল মিয়া বাদি হয়ে বালাগঞ্জ থানায় পরদিন ৬ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালত সুমেল খা কে দোষী সাইব্যস্ত করায়। ঘটনার ১৯ বছর পর আজ ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আদালত ধর্ষণ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমেল খা কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা। অনাদায় আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের রায় দেন।
স্বেচ্ছায় জরিমানারঅর্থ প্রদান না করলে সিলেট জেলা প্রশাসককে আসামীর সম্পত্তি বিক্রি করে ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়।
এ মামলায় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এড, মোশতাক আহমেদ। আসামি পক্ষে ছিলেন এডভোকেট আয়শা বেগম শেলী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেটের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো: আমিনুল ইসলাম জানান, রায়ের সময় আসামী সুমেল খা আদালতে হাজির ছিলেন। রায়ের পর তাকে বাদাঘাট জেলখানায় প্রেরণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বালাগঞ্জ থানার জি আর ১১৫/২০০৭ এর মামলা রয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারা। যে মামলায় বিজ্ঞ আদালত আসামি সুমেল খা পিতা তৈমুজ খা সাং গুপখানু থানা বালাগঞ্জ এর বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায় আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের রায় প্রদান করেন ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার।
s /a