দ্রুত সংস্কারের আহ্বান
সিলেটের বাস টার্মিনাল সড়কের বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ সিসিক প্রশাসক, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান
প্রকাশিত: ২২/০৭/২০২৬ ০৬:১৩:৩৬ অপরাহ্ন
ছবি: ।
সিলেট নগরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার প্রধান প্রবেশপথের বেহাল সড়ক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সড়কটিতে বড় বড় গর্ত ও বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরকে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গর্ত ভরাটের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে নগরের কদমতলী এলাকায় কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সড়কের অবস্থা দেখেন সিসিক প্রশাসক। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। ভিডিও বার্তায় আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, 'আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, এটি সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের প্রধান ফটক। এই পথ দিয়েই প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন টার্মিনালে প্রবেশ করে। অথচ পুরো সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, আর বৃষ্টির পানি জমে চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।' সড়কটি কেন সিটি করপোরেশন সংস্কার করছে না—এমন প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি। বলেন, 'অনেকে বলতে পারেন, আমি শুধু গর্ত দেখাচ্ছি, সংস্কার করছি না কেন। কিন্তু এই সড়কটি সিটি করপোরেশনের নয়। হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে মেন্দিবাগ, কুমারপাড়া হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কটির মালিকানা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের।' তিনি দাবি করেন, সড়কটি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাঁর ভাষায়, 'সড়কটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হলে নগরের অন্য সড়কের মতো এটিও নিয়মিত সংস্কার করা যেত। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সওজ এটি হস্তান্তর করছে না। আবার তাদের কাছে মেরামতের অনুরোধ জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না।' জনসাধারণের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে সিসিক প্রশাসক বলেন, 'সড়কটির মালিক কোন প্রতিষ্ঠান, সেটি সাধারণ মানুষের দেখার বিষয় নয়। মানুষ ভালো সড়ক চায়, নিরাপদে চলাচল করতে চায়।' সওজের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'মঙ্গলবারও সওজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। অবিলম্বে সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।' সাময়িক সমাধান হিসেবে সিটি করপোরেশন নিজস্ব উদ্যোগে গর্তগুলো ভরাট করবে জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমি প্রকৌশলীদের আজ থেকেই কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি। অন্তত গর্তগুলো ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করা হবে। তবে স্থায়ী সংস্কারের দায়িত্ব সওজের। আশা করি, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। অন্যথায় জনগণের ক্ষোভ আরও বাড়বে।' পরিদর্শনের সময় সিলেটের পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট জেলা সভাপতি মঈনুল হক বলেন, 'টার্মিনাল এলাকার প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে ভরে যাওয়ায় প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ভাঙাচোরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।' এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার দুপুরে সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, 'টার্মিনাল এলাকাসহ নগরের যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোর প্রাথমিক সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। সেই প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলমান রয়েছে।'
এইচ বি বা