আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস
অপার সম্ভাবনা, তবু পূর্ণতা পায়নি সিলেটের পর্যটন খাত
প্রকাশিত: ২৭/০৯/২০২৬ ১০:০৬:০১ পূর্বাহ্ন
ছবি: ।
পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান আর সবুজের অপার সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ সিলেট। জাফলং, বিছানাকান্দি, সাদাপাথর, লালাখাল, রাতারগুলসহ ছোট-বড় অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে এ অঞ্চলে। প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পরিবেশ সুরক্ষা, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিতে এখনও পূর্ণতা পায়নি সিলেটের পর্যটন খাত।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত সিলেট। প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকে জাফলং, লালাখাল, বিছানাকান্দি, সাদাপাথর ও রাতারগুলসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র। তবে, এত বিপুল সংখ্যক দর্শনীয় স্থান ও পর্যটনকেন্দ্র থাকলেও সরকারের গেজেটভুক্ত পর্যটনকেন্দ্রের সংখ্যা মাত্র দু'টি।
ছুটি কিংবা বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে সিলেটের এসব পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পিকনিকের জন্যও সিলেটকে বেছে নেন অনেকে।
পর্যটকদের ভাষ্য, সবুজ প্রকৃতি, চা-বাগান, পাহাড়, নদী ও ঝরনার বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য সিলেটকে অন্য যেকোনো গন্তব্য থেকে আলাদা করেছে। বিশেষ করে মেঘালয়ের পাদদেশের জাফলং, পাথর ও পাহাড়ঘেরা বিছানাকান্দি এবং জলারবন রাতারগুল পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের।
তবে, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে কাঠামোগত, পরিবেশগত ও প্রশাসনিক নানা সমস্যার কারণে সম্ভাবনার তুলনায় প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না এ খাত - এমনটাই বলছেন স্থানীয় তরুণ ও সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজের ধীরগতির কারণেও ভ্রমণপিপাসুদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তারা বলছেন, আগামী কয়েক বছরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে সিলেটে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তার আগেই পর্যটনকেন্দ্রগুলোর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
এদিকে, সিলেটের পর্যটন খাতের মূল আকর্ষণ প্রকৃতি হলেও তা রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ পরিবেশবাদীদের। তাদের মতে, প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুরক্ষিত রেখেই পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক কাশ্মীর রেজা বলেন, প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা করে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটের পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করতে হবে। উন্নয়নের নামে যাতে কোনোভাবেই পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম না হয়, সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তবে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়েই সিলেটের পর্যটন বিকাশে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির পরিকল্পনায় রয়েছে পর্যটন উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণসহ নানা উদ্যোগ।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান, যেসব পর্যটন স্পট এখনও সরকারের গেজেটভুক্ত হয়নি, সেগুলো গেজেটভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, পর্যটন এলাকায় যাওয়ার আগে এবং অবস্থানকালে পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সিলেটের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যটকদের আগমনের জন্য নিরাপদ বলেও মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সিলেটকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও দৃশ্যমান করতে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণ ও পর্যটন সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও এ খাতের টেকসই বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
sa