ইথিওপিয়ায় সংঘর্ষ
ইথিওপিয়ায় আবার ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ৫২
প্রকাশিত: ০১/১০/২০২৬ ০৭:৫৭:৩২ অপরাহ্ন
ছবি: ইথিওপিয়ায় ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ৫২।
ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের টাইগ্রে অঞ্চলের আলামাতা শহর ও আশপাশে তিন দিনের তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ৫২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক যোদ্ধাদের কাছ থেকে আলামাতা শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সরকারি বাহিনী। এখন তারা টাইগ্রের প্রধান শহর মেকেলের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আলামাতার বিভিন্ন সড়কে সেনাবাহিনীর ট্যাংক দেখা গেছে।
টাইগ্রে অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী পক্ষ ও ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা চলছিল। গত সপ্তাহে তা সশস্ত্র সংঘাতে রূপ নেয়। ২০২২ সালে দুই বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানে হওয়া শান্তিচুক্তি লঙ্ঘনের জন্য দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।
সংঘাতের প্রভাব আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান লালিবেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে ৩৩ জন পর্যটক আটকা পড়েছেন। গত বুধবার বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ পর্যটক শহরটি ছাড়তে পারেননি।
লালিবেলায় থাকা এক ব্রিটিশ পর্যটক বিবিসিকে জানান, পুরো সপ্তাহজুড়ে তারা গোলাগুলি ও ভারী কামানের শব্দ শুনেছেন। শহরটিতে সেনাবাহিনীর বড় উপস্থিতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
১৩ শতকে পাথর কেটে তৈরি ১৩টি গির্জার জন্য বিখ্যাত লালিবেলা। অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের কাছে শহরটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত। তবে সোমবার সামরিক হেলিকপ্টারে করে ১৪ জন ইসরায়েলি পর্যটককে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
লালিবেলার আশপাশের সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি আমহারা অঞ্চলের একটি মিলিশিয়াও জড়িত রয়েছে। ওই মিলিশিয়া টাইগ্রের যোদ্ধাদের সঙ্গে জোট করেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আরও কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়ে তারা সাত সদস্যের একটি জোট গঠন করে। জোটটির ঘোষিত লক্ষ্য হলো রাজধানী আদ্দিস আবাবায় থাকা সরকারকে সরিয়ে দেওয়া।
এদিকে, সংঘাতে প্রতিবেশী ইরিত্রিয়াও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইথিওপিয়ার সরকার অভিযোগ করেছে, ইরিত্রিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করছে। তবে ইরিত্রিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
sa