পথচারী ও চালকদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে যত্রতত্র সাইনবোর্ড
সড়ক বিভাজক যেন বিজ্ঞাপনের হাট
প্রকাশিত: ২৫/১০/২০২৬ ০৭:৫৩:০০ অপরাহ্ন
শহরের ব্যস্ততম পাঠানটুলা সড়কের মাঝখানে থাকা রোড ডিভাইডার বা সড়ক বিভাজকগুলো এখন সাধারণ পথচারী ও চালকদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধন কিংবা নিয়মতান্ত্রিক প্রচারণার তোয়াক্কা না করে সড়ক বিভাজকের ওপর সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে অসংখ্য বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের বোর্ড। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র এভাবে সাইনবোর্ড ও বিলবোর্ড স্থাপনের কারণে একদিকে যেমন শহরের দৃশ্য দূষণ ঘটছে, অন্যদিকে তীব্র ঝুঁকিতে পড়ছে চলন্ত যানবাহন ও সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের মাঝখানের আইল্যান্ড জুড়ে একের পর এক বিজ্ঞাপনের ফ্রেম ও সাইনবোর্ড দাঁড়িয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে এই বোর্ডগুলোতে বিজ্ঞাপনের বুকিংয়ের জন্য মোবাইল নম্বর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সারিবদ্ধ এই বোর্ডগুলোর কারণে সড়কের একপাশের চালকরা অন্যপাশের পরিস্থিতি বা পারাপাররত পথচারীদের স্পষ্ট দেখতে পান না। বিশেষ করে বাঁক নেওয়ার সময় বা ইউটার্ন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এই সাইনবোর্ডগুলো চালকদের দৃষ্টিসীমা সম্পূর্ণ আটকে দিচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী চালকদের অভিযোগ, সড়ক বিভাজক বা আইল্যান্ড তৈরি করা হয় রাস্তার সৌন্দর্য বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণ এবং মূলত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে। কিন্তু বর্তমানে সেগুলোকে স্রেফ বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাতের বেলা অনেক সময় এই বোর্ডগুলোর কারণে অপর পাশ থেকে আসা গাড়ির হেডলাইটের আলো সরাসরি চোখে পড়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ব্যস্ত সড়কের মাঝখানে এমন ঘনঘন সাইনবোর্ড স্থাপন করা ট্রাফিক আইনের পরিপন্থী এবং জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। দ্রুত এই অবৈধ বা অপরিকল্পিত বিজ্ঞাপনী বোর্ডগুলো অপসারণ করে সড়ক বিভাজকগুলোকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
কেএন