রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে তারা চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন
সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে ছেলে মেঘ
প্রকাশিত: ৩০/০৮/২০২৬ ০৮:৩৫:০৯ অপরাহ্ন
ছবি: ।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ‘একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ কানেকশন পাওয়া গেছে বলে চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গেছেন তাদের একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের আলী রোমান।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে তারা চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এ সময় নওশের রোমান সন্দেহভাজনদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডে ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদন দিতে চান।
তখন চিফ প্রসিকিউটর বলেন, চাইলে অভিযোগ দেওয়া যায়। আমাদের এখতিয়ারে থাকলে রাখবো, না হলে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়ে দেবো।
আইন মেনটেইনেবল কি না, সেটাও দেখতে হবে।
এর আগে, দুপুরে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, সাগর-রুনির তদন্তটা আমাদের তদন্ত সংস্থা করছে না।
এটা অন্য সংস্থা পিবিআই করে। তবে আমরা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হয়তো ক্লু পেয়ে যাই। যেমনটা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যা নিয়ে মেজর মোজাফফরের বিষয়ে কিছুটা ক্লু পেয়েছিলাম। সাগর-রুনির ব্যাপারেও ক্লু পেয়েছি। সেটার নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে পারছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাগর-রুনির এই ঘটনার কানেকশন পাওয়া যায়। আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছি। তার ওপর আমাদের নজরদারি আছে। আরও তদন্ত হওয়ার পরে কোনো অথেনটিক কিছু পাওয়া গেলে পিবিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তথ্যটা দিয়ে সহায়তা করবো।
এটি একটি ইনডিভিজ্যুয়াল মার্ডার কেস। এটি সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতে বিচার হবে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।
এর আগে, ২৭ আগস্ট সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পিছিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল।
এদিন মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। তাই আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১২৯ বার পেছালো।
সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে র্যাবের কাছে তদন্তাধীন ছিল।
বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্তের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের আদেশ দেন হাইকোর্ট। বর্তমানে পিবিআই মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এ মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অপর আসামিরা হলেন—বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। যাদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে রয়েছেন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তভার পড়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর। এর দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব)।
সিলেট/তা/৩