প্রকাশিত

১৪/০৯/২০২৬ ০৯:১৬:২১ অপরাহ্ন

খেলাধুলা

ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের বর্ণাঢ্য অথচ চড়াই-উতরাইয়ে ভরা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে।

ব্রাজিল দলে আর ফিরছেন না নেইমার, নিশ্চিত করলেন আনচেলত্তি

প্রকাশিত: ১৪/০৯/২০২৬ ০৯:১৬:২১ অপরাহ্ন

ছবি: ।

ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের বর্ণাঢ্য অথচ চড়াই-উতরাইয়ে ভরা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। সান্তোসের এই ফরোয়ার্ড আর কখনোই সেলেসাওদের জার্সিতে ফিরছেন না বলে নিশ্চিত করেছেন দলটির প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
গত বিশ্বকাপের হতাশাজনক বিদায়ের পর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নতুনভাবে গড়ে তুলতে এবার তরুণ প্রতিভাদের ওপর ভরসা রেখে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড।
একটি যুগের স্পষ্ট অবসান ঘটিয়ে আনচেলত্তি জানান, জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি মূলত নেইমার নিজেই নিয়েছেন।
এর মধ্য দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর থেকে তার আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চলতে থাকা মাসের পর মাসের জল্পনাকল্পনার অবসান হলো। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিল দলের প্রধান আকর্ষণ হয়ে থাকা নেইমারের প্রস্থানে দলে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সমমানের কোনো বিকল্প দিয়ে তা পূরণ করা অসম্ভব বলেই স্বীকার করেছেন আনচেলত্তি।
‘সিএনএন স্পোর্তেস’-কে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি সাবেক এই তারকা ফরোয়ার্ডের প্রসঙ্গে বলেন, ‘তার মানের কারণেই দলে থাকার যোগ্যতা তার ছিল। নেইমার নিজেই ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে সে আর জাতীয় দলে ফিরতে চায় না।
নেইমারের কোনো বিকল্প হতে পারে না, কারণ সে ছিল এক অসাধারণ ও অনন্য এক প্রতিভা। সুতরাং, সে একজন অপূরণীয় খেলোয়াড়।’
নেইমার অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক ইতি ঘটার পর আনচেলত্তি ও জাতীয় দলের পরিচালক রদ্রিগো সায়তানো এখন মনোযোগ দিচ্ছেন স্কোয়াডের আমূল সংস্কারে। লক্ষ্য পরিষ্কার, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলকে পুনরায় বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার উপযোগী একটি নতুন প্রজন্মের দল গড়ে তোলা। এই নবায়ন প্রক্রিয়ার ছাপ সাম্প্রতিক দল ঘোষণাতেই স্পষ্ট, যেখানে অভিজ্ঞ তারকাদের বাইরে রেখে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া লিগের উদীয়মান তরুণদের।
আগামী চার বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরে ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে জন্ম নেওয়া ফুটবলারদের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এখন আমাদের সেই তরুণদের ওপর মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন যারা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ হতে পারে, যাদের জন্ম ২০০৪, ২০০৫ কিংবা ২০০৬ সালে। এমনকি ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়াও অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে, যারা হয়তো এখনও সেভাবে খেলছে না কিন্তু তাদের খেলার যথেষ্ট সামর্থ্য আছে। তাদের বয়সকে গুরুত্ব দিয়ে এবং যথাযথ সম্মান জানিয়ে তাদের দিকে তাকানোর সময় এখনই। এটা সত্যি যে ৩৬ কিংবা ৩৭ বছর বয়সেও একজন ভালো খেলতে পারে, তবে এখন আমাদের তরুণদেরই অগ্রাধিকার দেওয়ার সময়।’
নেইমার যুগের অন্যতম বড় সমালোচনা ছিল ম্যাচে জয়ের জন্য মাত্রাতিরিক্তভাবে তার একক জাদুর ওপর নির্ভরতা। এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে চান আনচেলত্তি। এমন এক দলগত সংস্কৃতি তৈরি করতে চান, যেখানে কোনো একক ব্যক্তির চেয়ে দলের সামগ্রিক ঐক্য বড় হয়ে দাঁড়াবে। এই ইতালিয়ান ট্যাকটিশিয়ানের বিশ্বাস, আধুনিক ফুটবলের গতি ও উচ্চ চাহিদার সঙ্গে ব্রাজিল তখনই খাপ খাওয়াতে পারবে, যখন একটি সুশৃঙ্খল অথচ সৃজনশীল কাঠামোর মধ্যে তরুণদের মেলবন্ধন ঘটানো যাবে।
আসন্ন অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতেই এই কৌশলের প্রাথমিক পরীক্ষা শুরু হবে। সেখানে বেশ কয়েকজন নতুন মুখকে সুযোগ দিয়ে তাদের দীর্ঘমেয়াদি সামর্থ্য মূল্যায়ন করবে টিম ম্যানেজমেন্ট।
আধুনিক ফুটবলের বাস্তবতা মনে করিয়ে দিয়ে আনচেলত্তি যোগ করেন, ‘আমার বিশ্বাস, আধুনিক ফুটবলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলগত ঐক্য, কোনো একক প্রতিভা নয়। অবশ্যই দলে বড় মাপের ব্যক্তিগত প্রতিভা থাকলে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বাড়ে, তবে আধুনিক ফুটবলে দলগত সংহতির ঘাটতি কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। আমরা ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ‘দল’ তৈরি করতে কাজ করছি, কোনো একক অসাধারণ প্রতিভার ওপর নির্ভর করে থাকার জন্য নয়।’
এই পরিবর্তনের তাগিদ মূলত তৈরি হয়েছে সর্বশেষ বিশ্বকাপের আকস্মিক ও হতাশাজনক বিদায়ের ক্ষত থেকে। প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় পুরো কৌশল নতুন করে সাজাতে বাধ্য হয়েছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন। পেছনের ভুলত্রুটি স্বীকার করে দলে দায়বদ্ধতা ও ধারাবাহিক উন্নতির সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যয় জানান কোচ।
সামনের প্রীতি ম্যাচগুলোকেই নতুন ভিত গড়ার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন তিনি, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে তরুণদের।
আনচেলত্তি বলেন, ‘বিশ্বকাপের ফলাফল নিশ্চিতভাবেই এক বিরাট হতাশার ছিল, এ জন্য আমরা সত্যিই দুঃখিত। তবে এখন আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে। খেলোয়াড়দের একটি নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে আমাদের হাতে পর্যাপ্ত সময় আছে। আর ব্রাজিলিয়ান ফুটবল যেসব নতুন প্রতিভার জন্ম দিচ্ছে, এই প্রীতি ম্যাচগুলোর মধ্য দিয়ে মাঠে তাদের সামর্থ্য যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ মিলবে। আমি বিশ্বাস করি, ব্রাজিলের সবসময়ই বিশ্বের সেরা দলগুলোর কাতারে থাকা উচিত।’


খেলাধুলা/তা/৬