প্রকাশিত

১৫/০৯/২০২৬ ০৬:৪৩:২০ অপরাহ্ন

জাতীয়

‘গণতন্ত্র পেয়েছি, এখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব’ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গণতন্ত্র পেয়েছি, গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব- সিলেটে রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত: ১৫/০৯/২০২৬ ০৬:৪৩:২০ অপরাহ্ন

ছবি: ।

‘গণতন্ত্র পেয়েছি, এখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব’ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকারি ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে গণতান্ত্রিক অবস্থাকে টিকিয়ে রাখা এবং সংসদকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবনে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আজকে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে, রক্তপাতের বিনিময়ে, আমাদের সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটা সরকারকে সরিয়ে দীর্ঘকাল লড়াই করে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছি। আমরা একটা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটা সুযোগ হয়েছে।”
তিনি বলেন, “গণতন্ত্র পেয়েছি, গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এখন আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সবচেয়ে বড় দায়িত্ব আজকে যে বিরোধী দল আছেন, সরকারি দল আছেন- আমি মনে করি যে সরকারি দল, বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে গণতান্ত্রিক অবস্থাকে টিকিয়ে রাখা।”
সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “প্রধান দায়িত্ব হবে যে সংসদ আছে, সেই সংসদকে ফাংশন করা, তাকে কাজ করে ঠিক সেভাবে কাজ করার চেষ্টা করা। অন্যান্য বিষয়গুলোতে দ্বিমত থাকতে পারে, সেই দ্বিমত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কিন্তু সমাধান করা সম্ভব।”
দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী দিনগুলোতে আমাদের যেমন আমরা অতীতে লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য, সামনের লড়াই হচ্ছে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাদের জন্য প্রত্যেক অর্থেই বাসযোগ্য আবাসন আমরা নির্মাণ করতে পারব।”
সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি প্রবাসীদের আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আজকে যারা প্রবাসী আছেন, যারা যথেষ্ট যোগ্যতা আছে, তাদের ইনভেস্ট করার যদি আরও এগিয়ে আসেন, তাহলে এখানে আমাদের উন্নয়ন অনেক বেশি মূলত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সিলেটের পর্যটন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আপনাদের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আপনাদের পাহাড়, নদী, ঝরনা, চা-বাগান, বন, হাওড়-সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম একটা প্রধান পর্যটন অঞ্চল। আমার মনে হয় এটাকে ডেভেলপ করার আরও সুযোগ রয়েছে।”
সিলেটের মৎস্য ও খনিজ সম্পদের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “এখানে মৎস্য চাষের বড় সুবিধা আছে। হাওড়গুলোতে অনেক বেশি সুবিধা আছে। এবং এখানে যে মিনারেলস আছে সেগুলো দিয়ে আপনি এখানে শিল্প গড়ে উঠতে পারেন। অনেক বড় বড় শিল্প উঠতে পারেন।”
তিনি বলেন, “প্রবাসীদের বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প, চা শিল্প, পর্যটন, কৃষি, মৎস্য, গ্যাস ও প্রযুক্তি উদ্যোগ সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।”
সিলেটের চা রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, “গতকালই পাকিস্তানের হাইকমিশনার তিনি আমার সাথে আগলেন। তিনি বললেন যে তিনি কয়েকদিন আগেই সিটিতে এসেছিলেন। চা এখান থেকে নিয়ে যাবেন। অর্থাৎ তারা আমদানি করবেন। আমাদের এখান থেকে চা। এটা করা দরকার।”
সিলেটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুণী ব্যক্তিদের স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “আজকে এসেছি এই সিলেটে। এই সিলেট নিজেই অত্যন্ত গর্বিত একটি জায়গা। কারণ এখানে যাদের জন্ম হয়েছে, যারা বিভিন্ন সময়ে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা আপনাদের অনেক গর্বিত সন্তান।”
তিনি হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, শাহ আবদুল করিম, হেমাঙ্গ বিশ্বাস, সৈয়দ মুজতবা আলীসহ বিভিন্ন গুণী ব্যক্তির অবদানের কথা স্মরণ করেন।সিলেটের প্রবাসী সমাজের অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “সিলেটের প্রবাসী সমাজ যে প্রবাসী সমাজ শুধু সিলেটের অর্থনীতি নয়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।”


সিলেট/তা/১