কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংলাপ, সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান
প্রকাশিত: ১২/১০/২০২৬ ০৬:১১:০৮ অপরাহ্ন
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংলাপ শুরুর উদ্যোগে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।
সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইরান-সমর্থিত হুতিদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সময় রোববার (১১ অক্টোবর) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি বলেন, রাজনৈতিক সমাধানের পথ উপেক্ষা করে সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলোর সামরিক কোনো সমাধান নেই।
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
এর আগে রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেন নিয়ে ওয়াশিংটনের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার কথা বলেন। ইরানের ওপর আবার হামলা চালানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছেন বলে জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে আবার হামলা চালানো হবে না। নতুন বক্তব্যে সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেখা গেছে।
দীর্ঘদিনের মতবিরোধ সত্ত্বেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু রয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশ সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সম্মত হয়। এর আগে সাত বছর ধরে তাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল।
তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরানের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ওই যুদ্ধের পর ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
গত মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার বিষয়টি আর অনির্দিষ্টকাল সহ্য করা হবে না। তিনি তেহরানকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কেএন