সিলেট বোর্ডে চার বছরে পরীক্ষার্থী কমেছে ২৬ হাজারের বেশি, তলানিতে পাসের হার
প্রকাশিত: ১০/০৮/২০২৬ ১২:২৭:০০ অপরাহ্ন
ছবি: ।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে গত কয়েক বছরে এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। তবে চলতি বছর গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ২২২ জন। অন্যদিকে পাসের হার নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম। সোমবার (১০ আগস্ট) সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ও বিগত বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে মোট ৮৯ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮৯ হাজার ৭৯ জন। পাস করেছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। বোর্ডের মোট পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। চলতি বছরের ফলাফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা দেখা গেছে পাসের হারে। ২০২৫ সালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে তা কমেছে ১০ দশমিক ২৪ পয়েন্ট। ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা উল্টো চিত্র দেখা গেছে। ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৭৪৫ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ৯১ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ এক বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ২২২ জন। ২০২৫ সালের ফলাফলেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ৬১৪ জন ছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে। ২০২২ সালে সিলেট বোর্ডে ৭ হাজার ৫৬৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৪৫২, ২০২৪ সালে ৫ হাজার ৪৭১ এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ৬১৪ জন। অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ৭২৯ জন কম। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৯১ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩২ জন। ২০২৪ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৭৩ জন এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ২ হাজার ২১৯ জন। ২০২৬ সালে তা আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৭৯ জনে। অর্থাৎ ২০২২ থেকে ২০২৬—চার বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী কমেছে ২৬ হাজার ৩১২ জন, যা প্রায় ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে ‘কয়েক গুণ’ নয় বরং ধারাবাহিকভাবে প্রায় এক-পঞ্চমাংশের বেশি পরীক্ষার্থী কমেছে। পাসের হারও একই সময়ে ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। ২০২২ সালে ৭৮ দশমিক ৮২ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৭৬ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ, ২০২৫ সালে ৬৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং এবার তা নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে। এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২৫ হাজার ৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। পাস করেছে ২০ হাজার ১৫৯ জন। এর মধ্যে ৯ হাজার ৪৬৭ জন ছাত্রের মধ্যে ৭ হাজার ৬৯৮ জন এবং ১৫ হাজার ৬৩১ জন ছাত্রীর মধ্যে ১২ হাজার ৪৬১ জন পাস করেছে। মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল ৫৭ হাজার ৭৬০ জন। পাস করেছে ২৭ হাজার ৮১৫ জন। এর মধ্যে ২২ হাজার ৯৩৩ জন ছাত্রের মধ্যে ১০ হাজার ৩০২ জন এবং ৩৪ হাজার ৮২৭ জন ছাত্রীর মধ্যে ১৭ হাজার ৫১৩ জন কৃতকার্য হয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬ হাজার ২২১ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯৮৩ জন পাস করেছে। এ বিভাগে ছাত্র ছিল ৩ হাজার ৩৮ জন, যার মধ্যে ১ হাজার ৮৮৯ জন পাস করেছে। ছাত্রী ছিল ৩ হাজার ১৮৩ জন, যার মধ্যে ২ হাজার ৯৪ জন কৃতকার্য হয়েছে। তিন বিভাগ মিলিয়ে ৩৫ হাজার ৪৩৮ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৯ হাজার ৮৮৯ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে ৫৩ হাজার ৬৪১ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩২ হাজার ৬৮ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ফলে এবারও পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। জেলাভিত্তিক ফলাফলে সিলেট জেলায় পাসের হার সবচেয়ে বেশি। এ জেলায় ৩৫ হাজার ২৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ হাজার ১৬০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সুনামগঞ্জে ১৮ হাজার ২৮৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ৯ হাজার ৯৯৯ জন। পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। মৌলভীবাজারে ১৯ হাজার ৮৫৬ জনের মধ্যে ১১ হাজার ১০৩ জন কৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। সবচেয়ে কম পাসের হার হবিগঞ্জে। জেলার ১৫ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ হাজার ৬৯৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।চার বছরে পরীক্ষার্থী কমেছে ২৬ হাজারের বেশি
বিজ্ঞান ও মানবিকে মেয়েরা এগিয়ে
জেলায় সিলেট এগিয়ে, পিছিয়ে হবিগঞ্জ
শুভ প্রতিদিন/এমকে