জমি রক্ষায় অসহায় কৃষক, বিবাদীদের বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকির অভিযোগ
গোয়াইনঘাটে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ
প্রকাশিত: ১৭/০৮/২০২৬ ০৩:৪২:০৭ অপরাহ্ন
ছবি: ।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের উত্তর প্রতাপপুরে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা নির্দেশনা অমান্য করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উসমান গনী, সবুজ মিয়া, ফয়জুল ইসলাম, মুফাজ্জিলের বিরুদ্ধে। এতে ফসলি জমি ও গাছপালা ধ্বংস হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গনীর ছেলে কৃষক শাহ আলম।
শাহ আলমের অভিযোগ, আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও তা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে গাছপালা কেটে তার জমিতে বড় ধরনের গর্ত ও জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে ক্ষতি সাধন হয়েছে মামলায় উল্লেখ করেন তিনি । বাধা দিতে গেলে তাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
জমি রক্ষায় শাহ আলম সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে ৯৭/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উত্তর প্রতাপপুর মৌজায় জেএল নং-৬৬, সাবেক খতিয়ান-৮৮, দাগ নং-১ ও ২ এবং বিএস দাগ নং-১১৬ দাগে বিভিন্ন দাগে মোট সাত বিঘা জমি দীর্ঘদিন ধরে শাহ আলমের পরিবার ভোগদখল করে আসছে। এর মধ্যে ১ একর জমি সরকার বাহাদুর হইতে বন্দোবস্তের মাধ্যমে তার পিতা আব্দুল গনি মালিক হয়ে ভোগদখল করছেন।জমির নিয়মিত নামজারি, ডিসিআর ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মাধ্যমে তারা জমি ভোগদখল করে আসছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শাহ আলমের দাবি, প্রায় ২৫ বছর ধরে তারা ওই জমিতে চাষাবাদ ও গাছপালা রোপণ করে ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি উসমান গনী, সবুজ মিয়া, ফয়জুল ইসলাম ও মুফাজ্জিল আহমদ তার জমি দখলের চেষ্টা করছেন। তার পিতার কাছ থেকে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জমি বিক্রির একটি কথিত স্টাম্প দেখিয়ে তারা বিরোধ সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বাদীর আরও অভিযোগ, আদালতে ১৪৪ ধারা মামলা দায়েরের পর গোয়াইনঘাট থানার এসআই নাইমুল হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করেন। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে বিবাদীরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদী ফয়জুল ইসলাম। তিনি বলেন, ২০২১ সালে শাহ আলমের পিতা আব্দুল গনীর কাছ থেকে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ১ একর ৬৫ শতক জমি ক্রয় করেছেন তারা। ক্রয়সূত্রে জমির মালিক হয়ে সেখানে ঘর নির্মাণ ও পোল্ট্রি ফার্মসহ ভোগদখলে আছেন। বালু উত্তোলনের সঙ্গে তিনি জড়িত নন এবং বালু উত্তোলনের জন্য কারও কাছে জমি বিক্রিও করেননি বলে দাবি করেন তিনি।
ফয়জুল ইসলামের দাবি,শাহ আলম মামন নামে এক ব্যক্তির কাছে ২৫ শতক জমি বিক্রি করেন।যাদের কাছে বিক্রি করছে তারাই ওই যায়গা থেকেই বালু উত্তোলন করছে। তার পিতা জীবিত অবস্থায় জমি বিক্রি করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিতার মৃত্যুর পর সেই জমি বিক্রি হয়নি—এমন দাবি তুলে তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার এসআই নাইমুল হাসান বলেন, সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আদালত কর্তৃক ১৪৪ ধারা জারির আদেশ নোটিশ প্রাপ্ত করা হয়েছে।বালু উত্তোলনের কারনে ঘটনাস্থল থেকে একটি গাছ কাটা হয়েছে। গাছটি জব্দ করে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে রাখা হয়েছে।উভয় পক্ষ কে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিবাদী পক্ষ কে বালু উওোলন না করার জন্য বলা হয়েছে।তিনি আরোও বলেন,এ বিষয়ে আদালত কর্তৃক এসিল্যান্ড কে দখল বিষয়ক সুস্পষ্ট মতামত সহ প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এবিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকারিয়া হোসেন এর মুঠোফোনেহ একাধিক বার কল দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, আদালতের নির্দেশনা ও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
KN