সিলেটে প্রধান বিচারপতি
আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ ও যথাযথ ব্যবহার করতে হবে
প্রকাশিত: ২৬/০৯/২০২৬ ১০:১৮:০০ অপরাহ্ন
ছবি: ।
সিলেট বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী অভিভাষণ প্রদান করেছেন। গতকাল শনিবার সকাল ১০ টায় সিলেটের “গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের” হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের চার জেলা—সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলায় কর্মরত বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি এ অভিভাষণ প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের চার জেলার বিভিন্ন আদালতে কর্মরত বিচারকগণ দ্রুত ও কার্যকরভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীর সংকট, বাজেট স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এসব সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।
প্রধান বিচারপতি বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামি হাজিরকরণসহ বিচারিক কার্যক্রমের উপযুক্ত ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন এবং এ বিষয়ে সুপ্রীম কোর্টের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
প্রধান বিচারপতি আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ ও যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করার জন্য বিচারকদের নির্দেশ প্রদান করেন।
আইন ও বিচারিক মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের জন্য দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সিলেট বিভাগের বিচারকদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে মনিটরিং কমিটি ফর সাব-অর্ডিনেট কোর্টস-এর সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারিক কর্মকর্তাগণ তাদের বিচারিক অভিজ্ঞতা, পেশাগত প্রত্যাশা এবং অধস্তন আদালতের বিচারকার্য পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় সিলেট বিভাগের চার জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজগণ বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর বিচারসেবা প্রদান, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচারিক কার্যক্রমে পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও মতামত তুলে ধরেন।
ডেস্ক রিপোর্ট :