প্রকাশিত

৩১/১০/২০২৬ ০৬:২২:১৪ অপরাহ্ন

সিলেট জুড়ে

৭৪৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ২০০ জন, মিতালী স্কুল ও কলেজে শতভাগ অকৃতকার্য

দোয়ারাবাজারে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, ৯ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২৬.৭৭ শতাংশ

প্রকাশিত: ৩১/১০/২০২৬ ০৬:২২:১৪ অপরাহ্ন

দোয়ারাবাজারে এইচএসসির ফল বিপর্যয়, ৯ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২৬.৭৭ শতাংশ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই পাসের হার ৫০ শতাংশে পৌঁছায়নি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৪৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২০০ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫৪৭ জন। সম্মিলিত পাসের হার ২৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তুলনামূলক ভালো ফল করেছে প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৪০ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এ ছাড়া ঘিলাছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৯৮ জনের মধ্যে ৩৭ জন (৩৭.৭৬%), দোয়ারাবাজার কলেজে ১২০ জনের মধ্যে ৩৫ জন (২৯.১৭%), সমুজ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৮৪ জনের মধ্যে ২৩ জন (২৭.৩৮%), বড়খাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৯৬ জনের মধ্যে ৪৯ জন (২৫%) এবং ভোগলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৮৩ জনের মধ্যে ২০ জন (২৪.১০%) উত্তীর্ণ হয়েছে।

অন্যদিকে হাজী কনুমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৪ জনের মধ্যে চারজন (১৬.৬৭%) এবং লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬০ জনের মধ্যে মাত্র সাতজন (১১.৬৭%) পাস করেছে।

সবচেয়ে হতাশাজনক ফল করেছে মিতালী স্কুল ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।

এমন ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষক সংকট, দক্ষ শিক্ষকের অভাব, অনিয়মিত পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়কে ফল বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

জেলা যুবদলের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও মিতালী স্কুল ও কলেজের স্থানীয় অভিভাবক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, দক্ষ ও পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাবেই এমন ফলাফল হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মিতালী স্কুল ও কলেজের সাবেক সভাপতি ও সুনামগঞ্জ জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, কলেজটি নতুন হওয়ায় শিক্ষক সংকটসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ছিল। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে আগামীতে ভালো ফলাফলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

স্থানীয় অভিভাবক ও ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি জুবায়ের আহমেদ বলেন, উপজেলার অন্যান্য কলেজে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী শেষ পর্যন্ত এ কলেজে ভর্তি হয়েছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়া এবং শিক্ষক সংকটের কারণে ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ময়না মিয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা ভর্তির পর এক থেকে দুই মাস ক্লাস করেছে। এরপর তারা নিয়মিত ক্লাসে আসেনি। চেষ্টা করেও তাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলার নয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৫০ শতাংশ অতিক্রম না করা এবং একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় শিক্ষক সংকট, পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষকসংকট ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি পর্যালোচনা করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী দিনেও এমন ফলাফলের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা রয়েছে।
 

কেএন