প্রকাশিত

০৪/১১/২০২৬ ০৬:০৯:০০ অপরাহ্ন

সিলেট জুড়ে

ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৪/১১/২০২৬ ০৬:০৯:০০ অপরাহ্ন

ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়নকাজের শুরুতেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষ এখনই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করলে সরকারের প্রায় পৌনে দুইশ কোটি টাকার প্রকল্পের অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে। 

এতে লাভবান হবে দুর্নীতিবাজরা, আর ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকতে হবে এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষকে।

 


জানা যায়, দেশের শীর্ষস্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড (ওটিবিএল) প্রায় এক মাস আগে সড়ক প্রশস্তকরণ ও আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক দুই লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সেতুর চত্বর থেকে ছাতক বাজার পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে। দুই অংশের এ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ১৭৪ কোটি টাকা।

সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহারের জন্য মাধবপুর লালপুল এলাকায় প্রায় আড়াই লাখ ব্লক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে শারফিনটিলার মরা লাল পাথরের সঙ্গে ভবন ভাঙার কংক্রিট, নিম্নমানের বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার করে প্রায় ২০ হাজার ব্লক তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সড়ক সম্প্রসারণের কাজে কাদাযুক্ত মাটি দিয়ে ভরাট করার অভিযোগ রয়েছে। অবৈধভাবে নদী থেকে ভিটমাটি উত্তোলন করে সড়কের কাজে সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সাইট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার ওপর ভিটমাটি ফেলে ভরাটের কাজ করা হচ্ছে। 

এতে সামান্য বৃষ্টি কিংবা পানির প্রবাহে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এসব কাজের যথাযথ তদারকি কিংবা প্রকল্প-সংক্রান্ত কোনো সাইনবোর্ডও চোখে পড়েনি। সচেতন মহলের অভিযোগ, শুকনো মাটির পরিবর্তে কাদামাটি দিয়ে সড়ক সম্প্রসারণের কাজ করা হচ্ছে, যা টেকসই সড়ক নির্মাণের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। ব্লক তৈরির কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদারের নির্দেশনা অনুযায়ীই তাঁরা কাজ করছেন। এ বিষয়ে তাঁরা আর কিছু বলতে রাজি হননি।

এদিকে, অবৈধভাবে কৃষিজমি ও সরকারি জমি থেকে কাদামাটি সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে, রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সুরমা নদী থেকে ভিটবালু উত্তোলন করে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কাজীবাড়ি এলাকায় মজুত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ভিটমাটি সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে সরবরাহ করে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা চমক আলীর বিরুদ্ধে সিলেট, ছাতক, কোম্পানীগঞ্জ ও জালালাবাদ এলাকায় অবৈধভাবে ভিটমাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫ সালে ছাতকের লালপুল এলাকা থেকে তাঁর একটি ড্রেজারসহ ড্রেজারের মালিক হাবিবকে আটক করেছিলেন ছাতক উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। পরে তদবিরের মাধ্যমে তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি কাজীবাড়ি এলাকায় ভিটমাটি মজুতের স্থানে অভিযান চালান বিশ্বনাথের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাব বিন আমিন। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিশ্বনাথের ভূমি কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাগজপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি। 

অন্য কোথাও থেকে ভিটমাটি এনে এখানে রাখা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাঁদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, চমক আলী বিভিন্ন বৈধ-অবৈধ ওয়ার্ক অর্ডার ও জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে এসব ভিটমাটির ব্যবসা করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কের সুরমা সেতুর চত্বর (পাগল হাসান চত্বর) পর্যন্ত দুই লেনের সড়কের মাটি ভরাটের কাজ এবং ভিটমাটিও তিনি সরবরাহ করছেন। তাঁর মাধ্যমে অনেকেই কৃষিজমি থেকে কাদাযুক্ত মাটি সরবরাহ করছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই কাজকে ঘিরে চমক আলীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এ বিষয়ে চমক আলী তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত শুধু মাটি ভরাটের কাজ তিনি করছেন। ভেজা মাটির কারণ দেখিয়ে সোমবার রাত থেকে কর্তৃপক্ষ তাঁর মাটি ভরাটের কাজ কয়েক দিনের জন্য স্থগিত করেছেন। অগ্রহায়ণ মাসের পর আবারও মাটি ভরাটের কাজ শুরু করবেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওটিবিএলের ডিপিএম এবং গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত দুই লেনের কাজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার সজল হাওলাদার বলেন, সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ব্লক তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে সিঙ্গেল ধরা আছে, সে সিঙ্গেল দিয়েই কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
ছাতক সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাদাৎ হোসেন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ব্লক তৈরির অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ভোলাগঞ্জের কোয়ারি বন্ধ। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে সাদা পাথর পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে শারফিনটিলার পাথর দিয়ে ব্লক তৈরি করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাতের বেলায় পাথর আনা হলে পরদিন সকালে তা ধুয়ে ব্লক তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। তাঁর দাবি, শতভাগ না হলেও ৯৫ শতাংশ কাজ ভালো হচ্ছে।

কেএন