প্রকাশিত

১৩/০৮/২০২৬ ১০:২৭:০৩ অপরাহ্ন

সিলেট জুড়ে

দুই গ্রামের সংবাদ সম্মেলন

ছাতকে রনির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৩/০৮/২০২৬ ১০:২৭:০৩ অপরাহ্ন

ছবি: ।

সুনামগঞ্জের ছাতকে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন রনির বিরুদ্ধে দুই গ্রামবাসীর নামে-বেনামে অপপ্রচার, অসত্য তথ্য প্রচার এবং বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার স্থাপনকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আলমপুর ও মাঞ্জিহারা গ্রামের বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর-মাঞ্জিহারা গ্রামের উদ্যোগে গ্রামের সড়কে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আবদুল আউয়াল, আবদুল মছব্বির, ফরিদ উদ্দিন, আবদুল গফ্ফার, নিয়ামত আলী ও আবদুল কাহার ফকির। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা মকদ্দুছ আলী ও উস্তার আলী, মুরব্বি রজব আলী, আলা উদ্দিন, আবদুল হেকিম, আবদুল মুকিত, আবদুল কাহার, আলী আহমদ, সমুজ আলী, কাপ্তান মিয়া, ছাবুল মিয়া, ইমান আলী, গোলাম হোসাইন, হাফেজ নুর আহমদ, তকদ্দুছ আলী, ইসলাম উদ্দিন, আবুল হোসেন, কাওছার আহমদ, জামিল আহমদ, ফরিদ মিয়া, কিতাব আলী, জাবেদ আহমদ, আবুল বশর, নাঈম আহমদ, তানভীর আহমদ, শাহ আলম, শরিফ উদ্দিন, দুলাল আহমদ, আবদুল মালিক, কালা মিয়া, কালা আহমদ, রুবেল মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুস ছোবহান খেছরা ও নেছার আহমদসহ দুই গ্রামের অনেক বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, গত ২৭ জুলাই গ্রামের পিডিবির একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেলে দুই গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। এতে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটে। পাশাপাশি ডিপ টিউবওয়েল থেকে পানি উত্তোলন করতে না পারায় পানির সংকটও দেখা দেয়। পরে গ্রামবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ একটি নতুন ট্রান্সফরমার বরাদ্দ দেয়।

ট্রান্সফরমারটি এলাকায় পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্টরা সেটি স্থাপনের কাজ শুরু করেন। গ্রামবাসীর অভিযোগ, এ সময় আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন রনি ট্রান্সফরমার স্থাপনে বাধা দেন এবং সেটি স্থাপনের জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করেন। এ কারণে সেদিন ট্রান্সফরমার স্থাপন না করেই সংশ্লিষ্টরা ফিরে যান বলে দাবি করেন তারা।

এ ঘটনার পরদিন গোবিন্দগঞ্জ কলেজ গেট এলাকায় রনির ওপর লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই দিন সন্ধ্যায় ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবিতে কয়েকশ মানুষ সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের বুড়াইরগাঁও বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

খবর পেয়ে সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেল) শেখ মোরছালিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করেন এবং ট্রান্সফরমার স্থাপনের বিষয়ে আশ্বাস দেন বলে গ্রামবাসীরা জানান। পরে দুই গ্রামের পক্ষে আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আউয়াল বাদী হয়ে আনোয়ার হোসেন রনির বিরুদ্ধে ছাতক থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে লিখিত অভিযোগ করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। গ্রামবাসীর দাবি, অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি এবং এ বিষয়ে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে ২৮ জুলাই রাতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আলমপুর এলাকায় নতুন ২০০ কেভিএ ট্রান্সফরমার স্থাপনের তথ্য অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীরা আরও বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গত ৯ আগস্ট বিষয়টি আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের দাবি, ওই বৈঠকে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার পরও আনোয়ার হোসেন রনি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে গ্রামবাসী ও স্থানীয় মুরব্বিদের বিরুদ্ধে অসত্য ও মনগড়া তথ্য প্রচার করছেন। অন্যদিকে, ৯ আগস্টের শালিশ বৈঠক নিয়ে প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রনির বিরুদ্ধে ছড়ানো চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা ওই অভিযোগের সত্যতা পাননি বলে জানান। একই বৈঠকে রনির ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তরা তার কাছে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ওই আপসের বিষয়কে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করে রনি এখন গ্রামবাসী ও মুরব্বিদের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে একতরফাভাবে বিভিন্ন বক্তব্য ও সংবাদ প্রকাশ করছেন। এদিকে আনোয়ার হোসেন রনির বিরুদ্ধে এর আগেও পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদাবাজির মামলা হওয়ার তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়। ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দৈনিক যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে দৈনিক আনোয়ার হোসেন রনিকে ট্রাফিক পুলিশের দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।প্রতিবেদনে ছাতক থানার তৎকালীন ওসির বরাতেও মামলাটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, আনোয়ার হোসেন রনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি দৈনিক যায়যায়দিনের ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি নাজমুল হাসান জুয়েল, দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন ও দৈনিক যুগভেরীর ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ মাহমুদ মনির এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস-এর ছাতক উপজেলা প্রতিনিধি অজিত কুমার দাসের বিরুদ্ধে অসত্য, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগও করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের দাবি, তাদের পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নাম-বেনামে অনলাইন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন গ্রামবাসীরা।

গ্রামবাসীরা দাবি করেন, এর আগেও নিজের গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে রনিকে স্থানীয়দের হাতে লাঞ্ছিত বা গণধোলাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে নির্দিষ্ট মামলা বা প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে আনোয়ার হোসেন রনের বিরুদ্ধে করা লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ ছাড়া দৈনিক যুগান্তরের মতো জাতীয় পর্যায়ের একটি সংবাদপত্রের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেন রনির বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে কলটি কেটে দেন। পরে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

কে ইউ এন