প্রকাশিত

২৪/০৮/২০২৬ ০৭:৪১:০৬ অপরাহ্ন

সিলেট জুড়ে

গৃহকর্তাকে ঘিরে অভিযোগ

দুই দিন নিখোঁজের পর কালনী নদীতে মিলল নারীর অর্ধগলিত মরদেহ

প্রকাশিত: ২৪/০৮/২০২৬ ০৭:৪১:০৬ অপরাহ্ন

ছবি: ।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর কালনী নদী থেকে লাকী বেগম (৩৫) নামে এক গৃহকর্মীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার( ২৪ আগস্ট) দুপুরে দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের রজনীগঞ্জ (টানাখালি) বাজারের পশ্চিমপাড় খেয়াঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত লাকী বেগম দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের মৃত আব্দুস শহিদ মিয়ার মেয়ে। তিনি প্রায় ১১ মাস ধরে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সলফ গ্রামের কামাল মিয়ার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন নিহত লাকী বেগম।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে লাকী বেগম কাউকে কিছু না জানিয়ে কামাল মিয়ার বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এ সময় তার সঙ্গে ঘরের কয়েকটি চাবি ও নিজের কাপড়ের ব্যাগ ছিল। এরপর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে গৃহকর্তা কামাল মিয়া এ নিয়ে শান্তিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

এর দুই দিন পর সোমবার দুপুরে টানাখালি এলাকায় কালনী নদীতে দুর্গন্ধযুক্ত একটি ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ঘটনাস্থলে আসা স্বজনরা মরদেহটি লাকী বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

তবে লাকীর মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে লাকীকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তারা গৃহকর্তা কামাল মিয়াকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

নিহতের ছোট চাচা দবির মিয়া অভিযোগ করে বলেন, আমার এতিম ভাতিজিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
জানা গেছে, লাকী বেগমের বাবা-মা ও একমাত্র ভাই অনেক আগেই মারা গেছেন। বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি স্বজনদের আশ্রয়ে থাকতেন।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা তার পরিচয় শনাক্ত করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে (ওসি) জানান।


কে ইউ এন