‘মাছের রাজা ইলিশ’, এই জনপ্রিয় বচন রসনাবিলাসী বাঙালির জন্য প্রযোজ্য।
এক সপ্তাহে ইলিশের দাম কমল কেজিতে ৮০০ টাকা
প্রকাশিত: ১৫/০৯/২০২৬ ০৬:৫৪:১৯ অপরাহ্ন
ছবি: ।
‘মাছের রাজা ইলিশ’, এই জনপ্রিয় বচন রসনাবিলাসী বাঙালির জন্য প্রযোজ্য। অপূর্ব সুস্বাদু বলে সবারই পছন্দের সেরা মাছ ইলিশ।
কিন্তু এর দাম নাগালের বাইরে হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে এই মাছটি কেনা প্রায় অসম্ভব।
মৌলভীবাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম কেজিতে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে। তবে ইলিশের ভরা মৌসুম চললেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ইলিশ মাছের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়। অনেকেই বাজারে এসে ইলিশ মাছের দরদাম করছেন।
তবে, দাম কমলেও অধিকাংশ ক্রেতাই বলছেন, ইলিশের দাম আরও কমানো প্রয়োজন।
মাছ ব্যবসায়ী জীবন মিয়া জানান, বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও একই আকারের ইলিশের দাম ছিল প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা। অর্থাৎ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কমেছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার টাকা কেজি দরে। আগে একই আকারের ইলিশের দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি। আর ৩০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬০০ টাকা কেজি দরে।
বাজারে মাছ কিনতে আসা গোলাম হোসেন বলেন, আগের তুলনায় ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। তবে আরও কমা দরকার। আমার মতে, ইলিশের দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা কেজির মধ্যে থাকা উচিত। তাহলে সাধারণ মানুষও ইলিশ কিনে খেতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার ইলিশ মানেই সুস্বাদু। যে কারণে দেশজুড়ে চাঁদপুরের ইলিশের চাহিদা বেশি। তবে এ বছর ভরা মৌসুমে ইলিশের দাম কমেনি। মৌসুমের শেষ দিকেও ইলিশের বাজার খুবই চড়া। বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। এই মূল্য আমাদের জন্য ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
বাজারে আসা স্থানীয় শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, বাড়িতে অতিথি আসায় বাধ্য হয়ে চারটি মাঝারি ইলিশ ২ হাজার ৬০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। অন্যদিকে, আরেক ক্রেতা মজিবুর রহমান ইলিশের চড়া দাম দেখে হতাশ হয়ে রুই মাছ কিনে বাড়ি ফেরেন।
আড়তদারদের মতে, সরবরাহ কম থাকায় মোকামেই প্রতি মণ ইলিশের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) আরিফ হোসেন জানান, অতিরিক্ত চাহিদার বিপরীতে জোগান কম থাকায় দাম চড়া। এ তো বাজারের অলিখিত নিয়ম।
সিলেট/তা/৪