প্রকাশিত

১৮/০৮/২০২৬ ০৭:৪২:২০ অপরাহ্ন

সিলেট জুড়ে

নদীভাঙন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কায় এলাকাবাসী

দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কের নদীর তীরবর্তী অর্ধশতবর্ষী গাছ নিধন:

প্রকাশিত: ১৮/০৮/২০২৬ ০৭:৪২:২০ অপরাহ্ন

ছবি: ।

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কের বিভিন্ন স্থানে কেটে ফেলা হচ্ছে অর্ধশত বছরেরও বেশি পুরোনো বহু প্রবীণ গাছ। এতে পরিবেশের ভারসাম্য ও সড়কের সৌন্দর্য বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সুরমা নদীর তীর ঘেঁষা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মারাত্মক নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে জানা যায়,দোয়ারাবাজার থেকে ছাতক পর্যন্ত সড়কটির একটি বড় অংশ নদীর তীর ঘেঁষে চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে বেড়ে ওঠা প্রবীণ এসব বৃক্ষ নদীর তীরের মাটি ধরে রাখতে এবং বর্ষাকালে ঢেউয়ের আঘাত প্রতিরোধে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করছিল। তবে সম্প্রতি নিলামের মাধ্যমে একের পর এক বৃক্ষ নিধনের ফলে পুরো এলাকা এখন বৃক্ষশূন্য ও উন্মুক্ত হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক উন্নয়ন বা ব্যবস্থাপনার নামে পরিবেশ ও সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষা করা হয়েছে। দোয়ারাবাজার-ছাতক বন বিভাগের কর্মকর্তা ফেরদৌস জানান, সড়কের পাশে অতিরিক্ত গাছ থাকায় নিয়ম অনুযায়ী নিলামের মাধ্যমে তা বিক্রি করা হয়েছে এবং নিলাম গ্রহীতারা পর্যায়ক্রমে গাছগুলো কেটে নিচ্ছেন।

সড়কে চলাচলকারী গাড়িচালক আলমগীর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তায় গাড়ি চালাই। বড় বড় গাছগুলো যাত্রী ও চালকদের স্বস্তি দিত। সড়কটি নদীর পাড় ঘেঁষে হওয়ায় গাছগুলো কেটে ফেলায় আগামী বর্ষায় নদীভাঙনের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যাবে।”

এদিকে স্কুলছাত্র আল আমিন আক্ষেপ প্রকাশ করে জানায়, রাস্তার পাশের এই পুরোনো গাছগুলো তাদের ছায়া দিত এবং চারপাশের পরিবেশ সুন্দর রাখত। নির্বিচারে গাছ কাটায় সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে দাবি করে সে বাকি গাছগুলো রক্ষা এবং নতুন করে গাছ লাগানোর দাবি জানায়।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অর্ধশতবর্ষী এসব গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবেশগত প্রভাব ও নদীভাঙনের ঝুঁকি যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। নদী তীরবর্তী এলাকার প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে ফেলে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে অবশিষ্ট প্রবীণ গাছগুলো সংরক্ষণ করা, নিধন বন্ধ করা এবং নদীভাঙন রোধে ওই স্থানে নতুন করে বনায়ন শুরুর জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।

কে ইউ এন